ছোট গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছোট গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

সম্পর্ক ভাঙ্গার ১০১ উপায়

মানিব্যাগটা হাতে নিতেই বুঝতে পারলাম এখান থেকে বেশ কিছু টাকা হাত সাফাই হয়েছে। গুনে দেখি দুইশো টাকা মতো গায়েব। আমার মানিব্যাগ থেকে টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন কোন ব্যাপার নয়। এই ঘটনা এর আগেও বহুবার ঘটেছে। আর টাকা গায়েবকারীর পরিচয়ও আমার অজানা নয়। টাকা গায়েবকারী হচ্ছে স্বয়ং আমার ছোটবোন রিমি!

বাড়ীর বড় ছেলে হওয়ার এই হচ্ছে সমস্যা। নিজের বলতে কিছু থাকেনা। টাকা থেকে শুরু করে সবকিছু ছোট ভাই বোনদের দখলে চলে যায়!

রিমি আজ সকালবেলা আমার মানিব্যাগ থেকে দু'শো টাকা মেরে দিয়েছে এটা অবশ্যই বড় একটা সমস্যা। কিন্তু এই মূহুর্তে এই সমস্যাটা নিয়ে আমি মাথা ঘামানোর কোন আগ্রহ পাচ্ছিনা। কারণ আমি অলরেডি এরচেয়ে বড় একটা সমস্যায় আছি!

সমস্যা ঘোরতর। সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নিতেই মৃন্ময়ীর মেসেজটা পেলাম। মেসেজে মৃন্ময়ী আমাকে লুচু সম্বোধন করে লিখেছে, সে আর কিছুতেই আমার সাথে রিলেশন রাখতে চায় না। এবং আমি যেন কখনোই কোনভাবে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা না করি। তারপর ফেসবুক থেকে শুরু করে হোয়াটস এপ পর্যন্ত সব জায়গাতে সে আমাকে ব্লক দিয়ে রেখেছে। তার ফোনে কল দিয়েও কোন রেস্পন্স পাচ্ছিনা। মেসেজেরও কোন রিপ্লাই পাচ্ছিনা!

মৃন্ময়ীর আমাকে লুচু বলার কি কারণ থাকতে পারে সেটা আমার মাথায় আসছেনা। সে কি মনে করে এরকম একটা মেসেজ লিখলো তার কারণও আমার কাছে পরিষ্কার না। মৃন্ময়ীর সাথে যোগাযোগ না হওয়া পর্যন্ত এই রহস্যের সমাধান হবে না।

অনেকবার ট্রাই করার পর দুপুরের পর করে অবশেষে মৃন্ময়ী আমার ফোন ধরলো। সে আমার কোন কথাই শুনতে চায় না। অবশেষে অনেক কিছুর দোহাই দিয়ে তাকে বিকেলে আমার সাথে একবার দেখা করার জন্য রাজী করালাম কোনমতে।

মৃন্ময়ী রেগে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বোকার মতো তাকিয়ে আছি তার দিকে। কিছু না বলে মৃন্ময়ী তার মোবাইলটা আমার দিকে এগিয়ে দিল। স্ক্রীনে আমার নাম্বার থেকে পাঠানো একটা মেসেজ ভাসছে।

মেসেজে লিখা আছে, "প্লিজ তিশা, তুমি আমাকে ভুল বুঝছো শুধু শুধু। এই ছোট্ট একটা কারণে তুমি আমার সাথে একবছরের রিলেশন ভেঙ্গে দিতে পারোনা। তুমি মৃন্ময়ীকে আমার সাথে দেখে ভুল কিছু ভেবে বসে আছো। মৃন্ময়ী তো আমার কাজিন বোন হয়। আমি সেদিন ওকে কলেজে এগিয়ে দিতে গেছিলাম শুধু।"

এর পরপরই আমার নাম্বার থেকে পাঠানো দ্বিতীয় আরেকটা মেসেজ আছে। এই মেসেজে লিখা, "মৃন্ময়ী প্লীজ আগের মেসেজটা তুমি পড়োনা, ওটা তোমার কাছে ভুলে চলে গেছে। ওটা ডিলিট করে দাও প্লিজ।"

মেসেজ দেখে আমার মাথায় হাত। এই মেসেজ আমি পাঠাইনি কিছুতেই। আমি কিছু বলার আগেই মৃন্ময়ী গর্জে উঠলো, "এই ব্যাটা এই, আমি তোর বোন হই শালা? তিশা মেয়েটা কে? আমার সাথে তোর রিলেশন একমাসের, আর ওই মেয়ের সাথে একবছর ধরে রিলেশনে আছিস তুই? শালা লুচু, তোর মতো একটা ছ্যাসড়ার সাথে আমার রিলেশনে যাওয়াটাই ভুল ছিল!"

"বিশ্বাস করো মৃন্ময়ী আমি এই মেসেজ লিখিনি!"

"তুই না লিখলে শালা তোর বাপে লিখেছে! আমি যাচ্ছি। খবরদার আর কখনো যোগাযোগের চেষ্টা করবিনা আমার সাথে!"

মৃন্ময়ী চলে গেল। মৃন্ময়ীর শেষ কথাটা আমি বুঝতে পারলাম না। মৃন্ময়ী বলেছে মেসেজ আমি না লিখলে আমার বাপে লিখেছে, কিন্তু আব্বু কেন মৃন্ময়ীকে শুধুশুধু মেসেজ লিখবে এই কথাটা কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকলোনা। তারপরই ঘটনার আসল রহস্য আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। মেসেজ আমি বা আমার বাপে না লিখলেও কে বা কারা লিখেছে তা আমি বেশ ভাল করেই বুঝতে পারলাম।

বাসায় ফিরেই রিমিকে কানে ধরে আমার রুমে নিয়ে আসলাম। এইটাই হচ্ছে আসল কালপ্রিট। জিজ্ঞাসাবাদে রিমি স্বীকার করলো যে সে কাল রাতে আমি ঘুমানোর পর আমার মোবাইল থেকে মৃন্ময়ীকে মেসেজ দুইটা পাঠিয়েছে। রিমির এই কাজের পেছনের কারণ শুনে আমি হতবাক।
কারণটা হচ্ছে, রিমির ধারণা আমার গার্লফ্রেন্ড থাকাতে আমার টাকার একটা বড় অংশ অপচয় হচ্ছে গার্লফ্রেন্ডের পেছনে। আর তাতে নাকি আমার টাকায় তার অধিকার আর ভাগ দুইটাই কমে যাচ্ছে দিনদিন!

রাতে রিমিকে ক্লাসের পড়া বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তার রুমে গিয়ে দেখি তার পড়ার টেবিলে রঙ্গিন প্রচ্ছদের ম্যাগাজিন সাইজের ছোট একটা বই পড়ে আছে।
বইয়ের নাম 'সম্পর্ক ভাঙ্গার ১০১ উপায়!' 😜

© Rayan Muntasir

সোমবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৬

নীল দুনিয়া

অনেকক্ষণ ধরেই সুযোগ খুজছে রনয় , চাচার চোখ ফাকি দিয়ে কিভাবে বাসা থেকে বের হওয়া যায় । কিন্তু ব্যাপারটা খুবই কঠিন হয়ে দাড়াচ্ছে তার জন্য । এখন তো এক রকম বডি গার্ড ছাড়া বাসা থেকে বেরই হতে পারে না সে । হয় চাচাতো ভাই , নাহলে চাচা বা চাচী নিজে গিয়ে স্কুল , কোচিং এ দিয়ে আসবে , নিয়ে আসবে । এত বড় একটা ছেলে , তার সাথে কাউকে আসতে হয় ব্যাপারটা যখন বন্ধুমহল টের পায় , তা যে কি রকম বিভীষিকাময় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় তা চাচা-চাচী টাইপ মানুষ গুলোর বুঝার কথা না । বাবা মারা যাওয়ার পর মায়ের আচলের নিচেও তার বেশি দিন থাকা হয়নি । মা তার নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে উন্নত জীবনের আশায় নিজের জন্য এক সঙ্গী ঠিক করে নিয়েছে । সেখানে তার ঠাই হয়নি ! কিন্তু মা তো !! কত ভালোবাসে সে মা কে , তা তো আর ঐ বড়লোক মানুষটা বুঝবে না । তাও সে মায়ের টানে চুপি চুপি মায়ের কাছে যায় , মায়ের কোলে মাথা রেখে একটু খানি সময় পার করে । আবার ঐ লোকটা বাসায় আসার আগেই চুপি চুপি বের হয়ে চলে আসে । কিন্তু আজ চাচাটা কেমন যেন রেগে আছে । সম্ভবত চাচাতো ভাইটার ভার্সিটিতে কিছু হয়েছে । কিন্তু তাতে রনয়ের কি ! রনয় তার মায়ের কাছে যেতে চায় । কিন্তু যদি তার চাচা টের পায় , তাহলে তার স্কুল কোচিং সব বন্ধ হয়ে যাবে । চার দেয়ালের ভিতর তাকে সারাজীবনের জন্য বন্দী হয়ে থাকতে হবে । রনয় বুকে কোল বালিশটা খুব জোরে চেপে ধরে রেখেছে । মনে হচ্ছে যদি একটা পাথর এনে বুকে চেপে রাখতে পারতো !! চাপা কান্নায় আরো কষ্ট হচ্ছে । কোল বালিশ আর বুকের মাঝে মা-বাবার ছবিসহ ফ্রেমটাও আছে । বুকে খুব ফ্রেমের চাপ লাগছে । আরো জোরে চেপে ধরতে চাইছে । পারলে ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলে । ওর দুনিয়ায় ঐ ছবিটাই সম্বল । সব ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট , হাসি , সুখ ... ওহ ! দুঃখিত ... হাসি সুখ তো ওর না ! এটা তো যাদের কিছু আছে , তাদের জন্য । রনয়ের জন্য এসবই Formalities !!
চাচা দোকানে গিয়েছে , চাচাতো ভাইটা তার রুমে ... নাহ ! চাচীও নেই । এই সুযোগ কে ছাড়ে । তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলো রনয় । রিকশা করে চলে আসলো বেইলী রোডে । এখন বাজে ৪ঃ৪৫ । পাঁচটা বাজলেই ঐ লোকটা অফিস থেকে বের হয়ে রওনা দিবে । তারাতারি মায়ের সাথে দেখা করে আসতে হবে ।
" মা ... মা ... " ঘরে মায়ের কোন সাড়া শব্দ নেই । আস্তে করে দরজাটা খুলে মায়ের বেড রুমে চলে আসলো রনয় । মা ঘুমিয়ে আছে । ফ্লোরে এক কৌটা টেবলেট পারে আছে । রনয়ের কেমন যেন লাগছে । কিছু একটা সন্দেহ হচ্ছে । মায়ের কাছে গিয়ে বসলো । হাতটা ধরলো । হাতটা খুব ঠান্ডা । রনয় পালস চেক করা শুরু করলো । নাহ ... অনেক দেরী হয়ে গেছে । বুক ফাটা কান্না আসছে তার । কিন্তু এমন কান্না সারা জীবন আটকিয়ে রেখে তার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে রনয়ের । চোখে পানি আসছে না আর । মায়ের অন্য হাতে একটা কাগজ ছিলো । সেখানে সেই সঙ্গীর উদ্দেশ্যে কিছু লিখা ছিলো । যা ছিলো তার অর্থ ছিলো , রনয়ের মা অর্থ বিত্তের সুখের মাঝেই ছিলো , কিন্তু মনের সুখ বলে তার কিছুই ছিলো না । রনয়ের বাবা মারা যাবার পর রনয় ছাড়া আর কেউই তাকে ভালোবাসেনি । সে রনয়কেও কাছে রাখতে চাইলেও সেই উচ্চবিত্তের লোকটি রনয়কে পছন্দ করেনি । গুরুত্ব দেয়নি তার কোন ধরনের পছন্দ অপছন্দ । তার কাছে অর্থের মূল্য ছিলো , কিন্তু ভালোবাসার না । আর কেউ তাকে ফিরিয়ে নিবে না । তার আর কোন যাওয়ার যায়গাও অবশিষ্ট নেই । তাই রনয়ের মা তার "প্রিয়তম" এর কাছে চলে যাচ্ছে । সে যানে , রনয়ের বাবা তাকে ফিরিয়ে দিবে না । :)
বাসায় ঢুকার পরই দেখে চাচা-চাচী , চাচাতো ভাই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে । সবার চোখেই অগ্নি দৃষ্টি । রনয় চাচার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসির ভাব দেখালো । " আর যাবো না , উনিও বাবার কাছে চলে গেছেন । আর চিন্তা করতে হবে না আপনাদের । "

সুখের ক্রেডিট কার্ড

রাগ করেই ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। এতটাই রেগে ছিলাম যে বাবার জুতোটা পড়েই বেরিয়ে এসেছি।
বাইকই যদি কিনে দিতে পারবেনা, তাহলে ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবার সখ কেন.?
হঠাৎ মনে হল পায়ে খুব লাগছে।
জুতোটা খুলে দেখি একটা পিন উঠে আছে।
পা দিয়ে একটু রক্তও বেরিয়েছে। তাও চলতে থাকলাম।
এবার পাটা ভিজে ভিজে লাগল।
দেখি পুরো রাস্তাটায় জল।
পা তুলে দেখি জুতোর নিচটা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে।
বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনলাম একঘন্টা পর বাস।
অগত্যা বসে রইলাম।
হঠাৎ বাবার মানি ব্যাগটার কথা মনে পড়ল, যেটা বেরোবার সময় সঙ্গে নিয়ে এসেছিলাম।
বাবা এটায় কাউকে হাত দিতে দেয় না।
মাকেও না।
এখন দেখি কত সাইড করেছে।
খুলতেই তিনটে কাগজের টুকরো বেরল।
প্রথমটায় লেখা "ল্যাপটপের জন্য চল্লিশ হাজার লোন"।
কিন্তু আমার তো ল্যাপটপ আছে, পুরনো বটে।
দ্বিতীয়টা একটা ডা: প্রেসক্রিপশন। লেখা "নতুন জুতো
ব্যাবহার করবেন"।
নতুন জুতো।
মা যখনই বাবাকে জুতো কেনার কথা বলত বাবার উত্তর ছিল "আরে এটা এখনও ছ'মাস চলবে"।
তাড়াতাড়ি শেষ কাগজটা খুললাম। "পুরানো স্কুটার
বদলে নতুন বাইক নিন" লেখা শোরুমের কাগজ।
বাবার স্কুটার!!
বুঝতে পেরেই বাড়ির দিকে এক দৌড় লাগালাম।
এখন আর জুতোটা পায়ে লাগছে না।
বাড়ি গিয়ে দেখলাম বাবা নেই।
জানি কোথায়।
একদৌড়ে সেই শোরুমটায়।
দেখলাম স্কুটার নিয়ে বাবা দাঁড়িয়ে। আমি ছুটে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম।
কাঁদতে কাঁদতে বাবার কাঁধটা ভিজিয়ে ফেললাম।
বললাম "বাবা আমার বাইক চাইনা। তুমি তোমার নতুন
জুতো আগে কেন বাবা। আমি ইঞ্জিনিয়ার হব, তবে
তোমার মতো করে।"
"মা" হল এমন একটা ব্যাঙ্ক, যেখানে আমরা আমাদের সব রাগ, অভিমান, কষ্ট জমা রাখতে
পারি।
আর "বাবা" হল এমন একটা ক্রেডিট কার্ড, যেটা দিয়ে আমরা পৃথিবীর সমস্ত সুখ কিনতে পারি। 

সম্পর্ক ভাঙ্গার ১০১ উপায়

মানিব্যাগটা হাতে নিতেই বুঝতে পারলাম এখান থেকে বেশ কিছু টাকা হাত সাফাই হয়েছে। গুনে দেখি দুইশো টাকা মতো গায়েব। আমার মানিব্যাগ থেকে টাকা গায়েব...